ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে দেশটির ২০২২ সালের নির্বাচন উল্টে দেওয়ার চেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে তৎকালীন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করেছিলেন। আদালত তাকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।
পাঁচ বিচারকের প্যানেলে চারজন বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করতে ভোট দেন। অভিযোগের মধ্যে ছিল—অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্র, সশস্ত্র অপরাধী সংগঠনে যোগদান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস। এসব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি, যখন তার সমর্থকেরা সরকারি ভবনে হামলা চালায়।
প্রসিকিউটররা জানান, ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ডো অ্যালকমিন এবং বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরেসকে হত্যার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অস্ত্র, বিস্ফোরক বা বিষ ব্যবহার করার ছক কষা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
বলসোনারোর বিরুদ্ধে প্রমাণের বড় অংশ তার ২০২২ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের পর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে। ফেডারেল পুলিশের মতে, তিনি জানতেন নির্বাচন উল্টে দেওয়ার পরিকল্পনা, সেনাবাহিনীকে চাপ দেওয়া এবং সমান্তরাল “সঙ্কট ব্যবস্থাপনা অফিস” চালুর বিষয়টি।
মঙ্গলবার প্রথম ভোট প্রদানকারী বিচারপতি মোরেস বলেন, আসামিরা সব অপরাধেই জড়িত। বিচারপতি ফ্লাভিও ডিনো, কার্মেন লুসিয়া এবং ক্রিশ্চিয়ানো জানিনও একই রায়ে সম্মতি দেন। তবে বিচারপতি লুইজ ফক্স বলসোনারোকে খালাস দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
এই রায়ের ফলে ৭০ বছর বয়সী বলসোনারোর জীবন কারাগারেই কাটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি অন্তত আট বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। যদিও আপিলের সুযোগ এখনো বাকি।
এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। বলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও এক্স-এ লিখেছেন, “গণতন্ত্র রক্ষার নামে গণতন্ত্রের স্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলসোনারোর পাশে দাঁড়িয়ে রায়কে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এমনকি ব্রাজিলের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং বলসোনারোর বিচারের জন্য বিচারপতি মোরেসসহ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রায়কে “অন্যায়” বলে আখ্যা দিলেও ব্রাজিল সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তারা “ভয় দেখানোয়” নতি স্বীকার করবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ল্যাটিন আমেরিকার একের পর এক সাবেক প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি, জালিয়াতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো বলসোনারোর নাম।
