জেরুজালেম: বহুল আলোচিত দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে সোমবার (আজ) আদালতে হাজির হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এর আগে তিনি একই মামলা থেকে রেহাই পেতে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমার আবেদন করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফের নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের সমর্থন, বিরোধীদের প্রতিবাদ: নেতানিয়াহুর এই ক্ষমা চাওয়ার আবেদনে সমর্থন জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতারা এই ক্ষমার আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমা দেওয়া যেতে পারে, তবে শর্ত হলো— তাকে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হবে অথবা নিজের দোষ স্বীকার করতে হবে। আবার অনেকে দাবি করছেন, ক্ষমার আগে তাকে অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে, যা ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা।
বেনেটের শর্ত: রাজনীতি ছাড়লেই মুক্তি: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান, তবেই তার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের পক্ষে তিনি। বেনেটের মতে, এভাবে দেশ পুনর্গঠন করে ঐক্যবদ্ধ একটি নতুন অধ্যায় শুরু করা সম্ভব।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ২০১৯ সালে ঘুষগ্রহণ, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। নেতানিয়াহু বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি ক্ষমার আবেদনেও কোনো দোষ স্বীকার করেননি। তার আইনজীবীরা আশাবাদী, বিচার শেষ হলে তিনি সম্পূর্ণ খালাস পাবেন।
আদালতের বাইরে বিক্ষোভ: সোমবার তেল আবিবের আদালতের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীরা কমলা রঙের কারাগারের পোশাক পরে এসেছিলেন এবং নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান। বিক্ষোভকারী ইলানা বারজিলাই ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “নেতানিয়াহু দোষ স্বীকার না করে বা কোনো দায় না নিয়ে ক্ষমার আবেদন করেছেন। এটি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।”
