পার্সটুডে জানায়, ফরাসি প্রভাবশালী সংবাদপত্র লা ফিগারো ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভিকে আখ্যা দিয়েছে “রোবটের রাজা”। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে ঘিরে অনলাইনে সমর্থন তৈরিতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাইবার যুদ্ধ ইউনিটের সহযোগিতায় হাজার হাজার রোবট বা বট অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়েছে।

লা ফিগারোর প্রতিবেদনের বরাতে পার্সটুডে জানায়, ইসরাইলের সাইবার যুদ্ধ ইউনিট এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বিপুল সংখ্যক ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে। এসব বট ব্যবহার করে ইরানের জনমত প্রভাবিত করা এবং দেশটিতে সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে অনলাইন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কারণে রেজা পাহলভিকে “রোবটের রাজা” বলা হয়েছে—কারণ সাইবারস্পেসে তাকে সমর্থন দিতে সংগঠিতভাবে হাজার হাজার বট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এটি ইসরাইলের সাইবার যুদ্ধ ইউনিটের সরাসরি বা পরোক্ষ সমর্থনের দিকেই ইঙ্গিত করে।

এই ডিজিটাল অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—“ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ডিজিটাল যুদ্ধ”-এর অংশ হিসেবে জনমত গঠন। বিশেষ করে ইরানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন সম্ভব এবং কাম্য—এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করাই মূল উদ্দেশ্য। সে জন্য রেজা পাহলভির মতো প্রতীকী ব্যক্তিত্বকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

স্বাধীন সংস্থা সোশ্যাল ফরেনসিকস এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব-এর বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—

মোট ৪,৭৬৫টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো প্রতিদিন গড়ে ১০০টিরও বেশি পোস্ট করেছে; এতে মোট ৮৪৩ মিলিয়ন টুইট ছড়িয়েছে।

আরও ১১,৪২১টি অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে, যেখানে মোট ১.৭ বিলিয়ন লাইক নিবন্ধিত।

৮,৮৩০টি অ্যাকাউন্ট বারবার ব্যবহারকারীর নাম বদলেছে, যা সমন্বিত অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ৩,৩৬১টি অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।

সোশ্যাল ফরেনসিকসের মতে, প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পাহলভিপন্থী অ্যাকাউন্টগুলোর ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভুয়া ও অবাস্তব। প্রতিবেদনে “অ্যাস্ট্রোটার্ফিং”—অর্থাৎ ভুয়া অ্যাকাউন্ট দিয়ে কৃত্রিম জনসমর্থনের আবহ তৈরির কৌশল—ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আখ্যান ছড়াতে সময়মতো ও সমন্বিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

লা ফিগারো লিখেছে, এসব কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ও হেরফের করা কনটেন্টও ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—রেজা পাহলভিকে “বিরোধী শিবিরের একক কণ্ঠস্বর” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতো বিদেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের প্রভাবিত করা।

 

news