বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিক ও মিত্র দেশগুলোর চাহিদা মেটাতে নিজেদের কৌশলগত রিজার্ভ (ইউএস স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ–এসপিআর) থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি)।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই তেল বিতরণ শুরু হবে এবং এই কার্যক্রম চলবে চার মাস বা ১২০ দিন পর্যন্ত। গত বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের কৌশলগত রিজার্ভ মূলত দুই অঙ্গরাজ্য টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভস্থ ডিপোতে সংরক্ষিত। সেখানে বর্তমানে মোট ৪১ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের রিজার্ভ হিসেবে ধরা হয়।
এই দুই ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০ কোটি ব্যারেল তেল। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্যই এই বিশাল রিজার্ভ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসপিআর রিজার্ভে ২০ কোটি ব্যারেল তেল পুনরায় যোগ করা হবে—এই শর্তের ভিত্তিতেই এখন ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ ব্যবহার করে।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনস জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টির বেশি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মাইন বসানোও শুরু করেছে ইরান।
এতে করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কৌশলগত রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
