হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নানা “কার্ড” দেখালেও ইরান এখনো তার পূর্ণ শক্তি প্রকাশ করেনি।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি একটি নতুন “ফর্মুলা” তুলে ধরেন, যেখানে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে ইঙ্গিত দেন। তার মতে, বাস্তব পরিস্থিতিতে ইরানের হাতে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে।
গালিবাফ ইরানের দিক থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন—হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং তেলের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক। তার দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে ব্যবহার করা হলেও বাকি দুটি কৌশলগত শক্তি এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গালিবাফ বলেন, তাদের কৌশলগত তেল মজুদ ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা কমানোর কিছু চেষ্টা করা হলেও ভবিষ্যতে তেলের দামে আরও বড় উত্থান ঘটতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণকেও সতর্ক করেন। গালিবাফ বলেন, গ্রীষ্মকালে আমেরিকায় ভ্রমণ ও জ্বালানির ব্যবহার বাড়ে, ফলে তেলের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে শান্তি আলোচনা থমকে থাকার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়ে ১০৭ ডলারের উপরে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উচ্চ স্তর। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও বেড়ে প্রায় ৯৬ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে থাকা এই কৌশলগত উপাদানগুলো ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
