উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) বিষয়ক এক সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়ং ইয়েন-দু এই অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এনপিটি থেকে সরে গিয়ে উত্তর কোরিয়া যেভাবে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে, তা বর্তমান বিশ্বের জন্য এক অত্যন্ত জটিল ও ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

জিয়ং ইয়েন-দু আরও বলেন, গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া (উত্তর কোরিয়া) হলো একমাত্র দেশ, যারা এনপিটি কাঠামোর সুবিধা নেওয়ার পর তা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছে।

তার মতে, এই আচরণ বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতির ওপর বড় আঘাত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নতি কেবল এই চুক্তির কাঠামোয় ফিরে আসার ওপরই নির্ভর করছে।

এই পারমাণবিক উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। জিয়ং ইয়েন-দু রাশিয়াকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঘনিষ্ঠতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে দুর্বল করছে এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে মস্কোর উচিত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উত্তর কোরিয়াকে সহযোগিতা বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সাল থেকে কার্যকর থাকা এনপিটি চুক্তি বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের প্রধান আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত। প্রতি পাঁচ বছর পরপর এর কার্যকারিতা ও দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করা হয়।

এবারের সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার এই কঠোর অবস্থান উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এশিয়ায় বড় ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

 

news