ভূমিকা: আমেরিকায় ঢুকে পড়া লাখো চীনা নাগরিককে ফিরিয়ে নিতে গাফিলতি করছে বেইজিং। আর সেই কারণেই চীনের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিজেই জানালেন বিস্ফোরক এই খবর।

যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের সম্পর্ক যেন দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। এবার সেই জটিলতা ছড়াল অভিবাসন ইস্যুতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আমেরিকায় থাকা নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চীন রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ওয়াশিংটন।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে হাজার হাজার চীনা নাগরিক আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে ঢুকেছেন বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। সরকারি হিসেব বলছে, বর্তমানে আমেরিকায় ১ লাখের বেশি নথিবিহীন চীনা নাগরিক আছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজারের আদালত দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

চীন কী বলছে?
শুরুতে চীন তাদের ৩ হাজার নাগরিককে ফেরত নিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে একজনকেও ফেরত নেয়নি বেইজিং। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার চীনের কাছে এই বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর সাড়া পায়নি ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “বেইজিং ধরে দিয়েছে তারা এই ইস্যুতে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়। এই অসহযোগিতার জের ধরেই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকায় চীনা দর্শনার্থীদের ভিসা পেতে বাধা আসবে।”

কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকদিন ধৈর্য ধরবে। তারপরও চীন কাগজবিহীন নাগরিকদের ফেরাতে না চাইলে— প্রথম ধাপে বাড়িয়ে দেওয়া হবে চীনা দর্শনার্থীদের ভিসা ফি, বাতিল করা হবে অনেক ভিসা। শেষ পদক্ষেপ হিসেবে স্থায়ী ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।

এদিকে আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বাণিজ্য সুবিধা আদায়ের এই সফরের আগেই চীনের বিরুদ্ধে বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনা দূতাবাস যদিও রয়টার্সের একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হয়নি।

 

news