প্রথম নির্বাচনেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ভূমিকম্প এনে দিয়েছেন ‘থালাপতি’ বিজয়। তাঁর দল টিভিকে বৃহত্তম শক্তি হয়ে উঠলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে। এখন সবাই একটাই প্রশ্ন দেখছে— কীভাবে এগিয়ে নেবেন সিনেমার নায়কের রাজনীতি?

রাজনীতির মাঠে প্রথম ব্যাট হাতেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন সিনেমার সুপারস্টার জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। অভিনেতা থেকে দল গঠন করে ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করা 'তামিলাগা ভেট্টি কোঝাগাম' (টিভিকে) এবার ১০৭ আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য দরকার ১১৮ আসন। মানে, এখনও ১১ আসন কম।

কিন্তু থেমে থাকার পাত্র নন বিজয়। এখন জোর জল্পনা— বাইরের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করবেন কি না?

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুরুতে রাজ্যপাল হয়তো বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকেই আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। আর তখন বাইরের সমর্থন পেলে সরকার গড়া সম্ভব।

বর্তমানে ডিএমকে জোটে থাকা কয়েকটি ছোট দল হয়তো টিভিকে-তে ঝুঁকতে পারে। যেমন— কংগ্রেস (৫ আসন), সিপিআই (২ আসন), সিপিআইএম (২ আসন), ভিসিকে (২ আসন)।

পাশাপাশি পিএমকের (পাট্টালি মাক্কল কাচ্চি) হাতে ৫ আসন। তারাও টিভিকে-তে যোগ দিতে পারে। তবে এআইএডিএমকে তো বিজেপির মিত্র আর বিজয় তো বিজেপিকে আদর্শগত প্রতিপক্ষ মানেন, তাই তাঁদের সঙ্গে জোট কঠিন।

একসময় ২০০৬ সালে ডিএমকে সংখ্যালঘু সরকার বাইরের সমর্থন নিয়েই টিকে ছিল। সেই ইতিহাস টেনে টিভিকে নেতাকর্মীরা আশাবাদী।

দলের তরুণ প্রার্থী রেভান্থ চরণ মাদুরাভয়াল আসন থেকে জিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “কোনও ভয় নেই। আমরা সরকার গঠন করব। চূড়ান্ত কথা বলবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।”

এবার টিভিকের অভিষেক যে রীতিমতো ঐতিহাসিক। চেন্নাই শহরে, যেটা ডিএমকের ঘাঁটি, সেখানে ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জিতেছে টিভিকে। আর বিজয় নিজে পেরাম্বুর ও ত্রিচি ইস্ট— দুটি আসন থেকেই জিতেছেন।

নির্বাচনের আগে বিজয় জোটের পথে না গিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ কেউ ক্ষমতা ভাগাভাগিতে রাজি হয়নি। ফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেই কৌশল কাজ দিয়েছে।

আগামী ৭ মের মধ্যেই শপথগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্দার আড়ালে চলছে দৌড়ঝাঁপ। টিভিকেকে নজর রাখতে হবে সংখ্যার সমীকরণের দিকে। আসলে সিনেমার নায়ক এবার রাজনীতির পর্দায় শেষ ‘একশন’ দৃশ্যটি কেমন হবে— সেটাই দেখার।

 

news