বিশ্বব্যাপী জনমত জরিপে চীন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছে জনপ্রিয়তা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপে চীন ৩৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ২৫টিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে।

এই জরিপে এশিয়া-প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইস্রায়েলে যুক্তরাষ্ট্র সামান্য এগিয়ে থাকলেও অন্যান্য অনেক দেশে দুই দেশের জনপ্রিয়তা প্রায় সমান। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৪২,০০০ের বেশি মানুষকে নিয়ে এই জরিপ করা হয়।

২০২৩ সালের তুলনায় এবারের ফলাফল বিশেষভাবে নজরকাড়া; যেখানে তিন বছর আগে ৫৮% মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ করতেন, এবার মাত্র ৩৬%ই যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানিয়েছেন, আর চীনের পক্ষে এখন ৪৬% মানুষের সমর্থন। জরিপে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের তুলনায় বেশি বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দেখা হয়েছে, যদিও উভয়ের প্রতি বিশ্বাসের মাত্রা মোটামুটি কমই রয়ে গেছে।

পিউ রিসার্চের সহযোগী পরিচালক লরা সিলভার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব এখন ইতিহাসে সবচেয়ে কম মাত্রায় নেমে এসেছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই ধরণের নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

কানাডা ও মেক্সিকোসহ আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও চীনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ৫৭% থেকে ৩৩% এ নেমে এসেছে, আর চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেড়ে ১৪% থেকে ৪৪% হয়েছে। ট্রাম্পের আমল থেকে শুরু হওয়া ক্যানাডার পণ্যের শুল্ক আর ‘৫১তম রাজ্যের’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিবর্তন ঘটেছে।

ইউরোপের প্রধান দেশগুলো যেমন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে ট্রাম্পের সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং শুল্কবিরোধী নীতিমালা ভূমিকা রেখেছে।

ল্যাটিন আমেরিকাতেও চীনের জনপ্রিয়তা সামান্য হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণ, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পেন্টাগনের অভিযান প্রভাব ফেলেছে।

চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “চীনের শাসন ব্যবস্থার সাফল্য এবং উন্নয়ন ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হচ্ছে।” হোয়াইট হাউস এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে জনমতের এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতির ধারা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের প্রতি বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি তার বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্প্রসারণকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়ে বিশ্ব মঞ্চে তার নেতৃত্বের প্রশ্ন তুলে দেয়।

বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। এছাড়া, ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বহুমাত্রিক শক্তির উত্থান নির্দেশ করে।

সুতরাং, এই জরিপের ফলাফল শুধু একটি মুহূর্তের প্রতিফলন নয়, বরং ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

Walton Ads