ব্রিকসের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি উন্নয়নমুখী মডেল তৈরি করার উপর যা ওয়াশিংটন বা ব্রাসেলস কখনো দিতে পারেনি, যেখানে আধিপত্য থাকবে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিকস, এবং এর সামনে রয়েছে দুটি মূল চ্যালেঞ্জ: অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ।
ব্রিকসের সফলতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর মিলিত লক্ষ্য নির্ধারণের উপর, যা কেবল তাদেরই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও প্রাসঙ্গিক হবে। আরটি বিশ্লেষণ করে বলেছে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় একটি ছোট শক্তিধর গোষ্ঠী বৈশ্বিক শাসন আরোপ করতে পারে না; এটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ প্রতিফলিত করবে।
সদস্য দেশগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন করতে হবে। ইউনাইটেড নেশনস দীর্ঘ সময় ধরে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করলেও পশ্চিমা শক্তির আধিপত্যের কারণে তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ব্রিকস একটি ভিন্ন এবং সমতামূলক উন্নয়ন মডেল উপস্থাপন করতে পারে।
পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অধিকাংশই নির্দিষ্ট সামরিক বা রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলন। কিন্তু ব্রিকস এরকম কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক শৃঙ্খলার ভিত্তিতে গঠিত নয় এবং এটি কোনও সামরিক জোট নয়। এটি কোনো একক বৈদেশিক নীতি আরোপের চেষ্টা করে না, বরং সদস্যদের সঙ্গেই মিল রেখে যৌথ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, আসিয়ান নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাত রোধ ও সহযোগিতার জন্য গঠন করা হয়েছিল, এবং সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৃহত্তর ইউরেশিয়ার নিরাপত্তা স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এসব সংগঠন তাদের মূল উদ্দেশ্য পূরণে সফল হলেও সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট।
জি-৭ পশ্চিমা শক্তিগুলোর মিলিত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, তবে বৈশ্বিক শাসনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি বিবেচিত হয় না। বিশ্বশক্তির পুনর্বিন্যাসের কারণে জি-৭ এর প্রভাব সীমিত হচ্ছে। আর ন্যাটো পশ্চিমা সামরিক জোট হিসেবে কাজ করলেও এটি বৈশ্বিক শাসনের সুযোগ পায়নি।
ব্রিকসকে পশ্চিমা শৈলীর কোনও বন্ধ ক্লাব বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীতে পরিণত হতে হবে না, কারণ এর মূল উদ্দেশ্যই বিশ্বকে স্থায়ী বিভাজনে রূপান্তরিত করা নয়। ব্রিকসের পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তব উদ্যোগগুলোকে সংযুক্ত করা, যা বৈশ্বিক শাসনের একটি নতুন ও সমতামূলক মডেল গড়ে তুলবে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ব্রিকসের বিকাশ বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এটি পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসন নিশ্চিত করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে শক্তির একগুঁয়েমি ও বিভাজনের বিরুদ্ধে একটি নতুন বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে ব্রিকস। তাই এর গঠনমূলক দিকনির্দেশনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।