জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর ঠিক আগে দলীয় প্রার্থীদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন জারি করেছে বিএনপি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের 'ধান শীষ' প্রতীকের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত সাত দফা নির্দেশিকা দিয়ে দিয়েছে দলটি। রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরিত একটি বার্তায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
কোন নির্দেশনাগুলো?
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রচারণার সময় ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, লিফলেট, প্রার্থীর ছবি ও ভোটার স্লিপের জন্য কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই ৭টি মূল নির্দেশনা:
১. সাইজের বাধ্যবাধকতা:
ব্যানার: সর্বোচ্চ ১০ ফুট x ৪ ফুট
বিলবোর্ড: সর্বোচ্চ ১৬ ফুট x ৯ ফুট
ফেস্টুন: সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি x ২৪ ইঞ্চি
হ্যান্ডবিল/লিফলেট: সর্বোচ্চ ৮.২৭ ইঞ্চি x ১১.৬৯ ইঞ্চি
প্রার্থীর ছবি (পোর্ট্রেট): সর্বোচ্চ ৬০ সেমি x ৪৫ সেমি
ভোটার স্লিপ: সর্বোচ্চ ১২ সেমি x ৮ সেমি
২. পোস্টার নিষেধ:
নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
৩. রঙের নিয়ম:
ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, লিফলেট, প্রার্থীর ছবি এবং ভোটার স্লিপ শুধুমাত্র সাদা-কালো হতে হবে। শুধুমাত্র বিলবোর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্ট রঙিন করা যাবে।
৪. কাদের ছবি থাকবে?
ব্যানার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট ও ফেস্টুনে প্রার্থীর নিজের প্রতীক ও ছবির পাশে শুধুমাত্র বর্তমান দলীয় প্রধানের (তারেক রহমান) ছবি ছাপানো যাবে।
৫. মুদ্রণের তথ্য:
যে কোনো ব্যানার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট বা ফেস্টুনে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা এবং মুদ্রণের তারিখ অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এই তথ্য ছাড়া কোনো ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা যাবে না।
৬. বিলবোর্ড সীমা:
একজন প্রার্থী কোনো একটি নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি নয়।
৭. ড্রোন নিষিদ্ধ:
নির্বাচনি প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের দিনে কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেন এই নির্দেশনা?
দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচন কমিশনের সকল বিধি-নিষেধের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখানোর জন্যই এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এটি একটি সুশৃঙ্খল ও মার্জিত প্রচারণার আহ্বানেরও অংশ।
