নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। রমজানের আগে সরকার কিছু পণ্যে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে এর কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ক্রেতারা বলছেন, দাম কমার খবর শুধু কাগজে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। মোহাম্মদপুর বাজারে আসা ভোক্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, “দাম কমার কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে দেখি উল্টো চিত্র। সব সরকারের একই অবস্থা, কেউ কিছু করতে পারে না। সংসার চালানো এখন দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে।”
সরকার চাল, সয়াবিন তেলসহ বেশ কিছু পণ্যের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়েছে, কিন্তু সাধারণ ভোক্তারা এখনো এর সুফল পাচ্ছেন না। বাজারে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সুবিধা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোমবার (৩ মার্চ) বেশ কয়েকটি আমদানি করা পণ্যের ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে সরিষার তেল, আটা, ময়দা, ডাল, এলপি গ্যাস, বিস্কুট, লবণ এবং গরম মসলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে রেপসিড অয়েল, কোলজা সিড অয়েল, কেনোলা অয়েলের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি থাকবে।
কিন্তু সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, বাস্তবে এর সুফল তারা পাচ্ছেন না। বাজারের পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। বরং রমজানের আগে কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডলার সংকট, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ভ্যাট কমানোর সুবিধা দিতে পারছেন না।
অনেকেই মনে করছেন, এই ভ্যাট কমানোর মূল সুবিধা ব্যবসায়ীরাই নিচ্ছে। ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, "ভ্যাট কমানোর সুবিধা আসলে সাধারণ জনগণের জন্য নয়, বরং এটি ব্যবসায়ীদের জন্যই দেওয়া হয়েছে। রোজার সময় এই ভ্যাট ছাড়ের কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে না।"
তিনি আরও বলেন, বাজারে নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি উৎপাদন থেকে বিক্রির শেষ ধাপ পর্যন্ত কঠোর তদারকি চালাত, তাহলে বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসত। তবে এখন পর্যন্ত এনবিআরের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, এর আগেও সরকার বিভিন্ন পণ্যের ভ্যাট বাড়িয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীরা সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পরে ভ্যাট কমানো হলেও, সেই হারে দাম কমেনি। ফলে, সাধারণ মানুষ শুধু দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, আর ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।
ভ্যাট কমানোর বাস্তব সুফল পেতে হলে বাজার তদারকি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকলে বাজারের অবস্থা পরিবর্তন হবে না। সাধারণ মানুষ কবে প্রকৃত সুফল পাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


