ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ির বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিলে জবাব হবে ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক।
মঙ্গলবার তেহরানে এক বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইরান গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, এসব বক্তব্য মূলত একটা বড় মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারণা যুদ্ধের অংশ।
সম্প্রতি ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জেনারেল শেকারচি বলেন, ট্রাম্পের এই চিৎকার-চেঁচামেচিকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ভালোভাবেই জানে—আমাদের নেতার দিকে যদি আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলবই না, বরং তাদের পুরো দুনিয়াকে আগুনে জ্বালিয়ে দেব। এই অঞ্চলে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।
শেকারচি যোগ করেন, শত্রুরা বিষয়টি জানে। তবুও তারা প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জানে, আমাদের ভূখণ্ডের সামান্য অংশেও যদি লঙ্ঘন ঘটে, আমরা হুমকিকে বিস্তারের আগেই নিষ্ক্রিয় করে দেব।
এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধকে ইরানের সক্ষমতার ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা নিয়েও কথা বলেন জেনারেল শেকারচি। তিনি জানান, এসব ষড়যন্ত্র পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের বাজার ব্যবস্থা ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দৃঢ়তার প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির সমন্বিত চেষ্টায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জেনারেল শেকারচি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় শত্রুর বড় পরিকল্পনা ছিল সামরিক চাপের পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় শত্রুপক্ষ আবারও একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এবারও তা ব্যর্থ হয়েছে।
তার ভাষায়, ব্যবসায়ী ও তাদের সংগঠনগুলো যখন বুঝেছে যে শত্রুরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায়, তারা এক মিনিটও দেরি করেনি। ৯ জানুয়ারির রাতে সব দুষ্ট গোষ্ঠী সংগঠিতভাবে মাঠে নামলেও ব্যবসায়ী ও গিল্ডগুলো আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়ে শত্রুকে হতাশ করেছে।
সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দাঙ্গার চরিত্র তুলে ধরে জেনারেল শেকারচি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো একটা ‘রক্তাক্ত কৌশল’ গ্রহণ করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল পরিচয় নির্বিশেষে যত বেশি সম্ভব হতাহত ঘটানো।
তার মতে, সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিল নিরীহ বেসামরিক মানুষ—যাদের মধ্যে শিশু ও তরুণরাও রয়েছে।
