গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে এবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল প্রতিবেশী দেশ কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর যে শুল্কের হুমকি দিয়েছে, তা তারা কখনোই মেনে নেবে না। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, "গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে কানাডা। আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা লক্ষ্যভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।" তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, এ ধরনের শুল্ক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি কানাডার পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার জানান, যেসব ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিরোধিতা করবে, তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি তিনি কানাডাকেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানোর হুমকি দিয়েছিলেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি মানচিত্র শেয়ার করেছিলেন, যেখানে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছিল।

আর্কটিক নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও মার্ক কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও, কানাডা সমমনা দেশগুলোর সাথে নতুন ধরনের জোট গঠনে আগ্রহী। তিনি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "যদি পরাশক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থের অবারিত অনুসরণে নিয়ম ও মূল্যবোধের ভানটুকুও ত্যাগ করে, তবে লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি থেকে সুফল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।"

গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি কেবল ইউরোপ নয়, উত্তর আমেরিকায়ও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। কানাডার এই প্রতিরোধের অবস্থান দেখিয়ে দিল, তারা এই ইস্যুতে ডেনমার্ক ও ইউরোপের পাশেই আছে। এখন দেখা যাক, ট্রাম্প কানাডার এই স্পষ্ট প্রতিবাদের পরও তার শুল্কের হুমকি বাস্তবায়ন করেন কিনা, নাকি পিছিয়ে যান।

 

news