যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর সারা বিশ্বের রাজনীতিতে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে একসাথে ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নাম জড়িত হয়েছে।

এই বিপুল নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হয়েছে ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার পাস করা একটি আইনের মাধ্যমে। যদিও নথিতে কারো নাম থাকা মানেই সে অপরাধী নয়, এবং এখনও পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবুও এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নতুন নথিতে উঠে এসেছে ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানি এবং এপস্টেইনের মধ্যে একাধিক বার্তালাপের প্রমাণ। এই ইমেইল ও বার্তাগুলোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সফর, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে ভারত সরকার এই সব ইমেইলকে "একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন মন্তব্য" বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এছাড়াও এই নথিতে ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও বিজেপি নেতা হারদীপ সিং পুরির নামও পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, তার সব যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার পর্যায়ের।

শুধু ভারত নয়, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড, যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন, নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট এবং স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাইচাকের মতো বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও এই নথিতে জড়িত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন নথির এই সর্বশেষ প্রকাশ শুধু ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নয়, এটি ক্ষমতা, প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্দার আড়ালের অস্বচ্ছ সম্পর্কগুলোকে নতুন করে ফাঁস করেছে। যদিও আইনগতভাবে এখনও অনেক কিছুই অনিশ্চিত, এই প্রকাশনা বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নটিকে আরও জোরালো ও জ্বলন্ত করে তুলেছে।

 

news