পারস্য উপসাগরের কাছে জ্বালানি পাচারের সঙ্গে জড়িত দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে একই দিনে দেশটি তাদের একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে। আলজাজিরা ও ইরনা এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, জব্দ করা জাহাজ দুটি থেকে ১০ লাখ লিটারের বেশি পাচার হওয়া জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ জন বিদেশি নাবিককে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ দুটি পারস্য উপসাগরের ফার্সি দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। আইআরজিসির দাবি, এই জাহাজগুলো একটি সংগঠিত জ্বালানি পাচার চক্রের অংশ, যা গত কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ছিল। নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজগুলো শনাক্ত করা হয় এবং পরে অভিযান চালিয়ে সেগুলো দখল করে নেওয়া হয়। তবে এখনও এই ঘটনার বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই সময়ে, ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে সিজিটিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মৌসাভি এবং আইআরজিসির অ্যারোস্পেস শাখার কমান্ডার সাইয়েদ মাজিদ মৌসাভির পরিদর্শনের সময় নতুন এই ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিটি উন্মোচন করা হয়। তাদের এই সফরের সময় আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সামর্থ্য এবং প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি, এই কৌশলগত ইউনিটের অগ্রগতি সম্পর্কে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।
নতুন ঘাঁটিতে বক্তব্য দেয়ার সময় আবদোলরহিম মৌসাভি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, "শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আমরা আমাদের সামরিক নীতিতে বড় রদবদল এনেছি। এখন আমাদের নীতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক। এই নতুন কৌশলে দ্রুত, বড় আকারের অভিযান এবং শত্রুপক্ষকে বিধ্বস্ত করার সামরিক পদ্ধতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
