ইসরাইল ঘোষণা দিয়েছে, গাজায় মানবিক সংস্থা 'ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স' (এমএসএফ)-এর সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ, ফিলিস্তিনি স্থানীয় কর্মীদের তালিকা তারা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে জমা দেয়নি। এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সংকুচিত হয়ে পড়া গাজার জীবনরক্ষাকারী সাহায্যের কার্যক্রমকেও আরও সীমিত করে ফেলতে পারে।

ইসরাইলের নির্দেশ অনুযায়ী, এমএসএফকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাজার সব কার্যক্রম বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যেতে হবে। এর আগে ইসরাইল অভিযোগ করেছিল, এমএসএফের দুই কর্মীর সাথে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোগসূত্র আছে। তবে, এমএসএফ স্পষ্টভাবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এমন সিদ্ধান্তে মানবিক সাহায্য কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে ইসরাইলের একটি বড় কৌশলের অংশ। গত অক্টোবর ২০২৩ থেকে চলমান যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১,৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এমএসএফ জানিয়েছে, এই সংঘাতে তাদের নিজেদের ১৫ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

এমএসএফ জানাচ্ছে, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা এবং তাদের তথ্য যেভাবে ব্যবহার হতে পারে সেই আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো তালিকা দেবে না। এই অনিশ্চয়তার কারণে গাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জরুরি চিকিৎসা ও প্রাথমিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে।

ফিলিস্তিনের এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছেন, এমএসএফের মতো সংস্থার কাজ বন্ধ হয়ে গেলে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে এবং চলমান যুদ্ধে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহভাবে বাড়তে পারে।

 

news