গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আবারও বড় ধরনের নৌ–অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে একটি আন্দোলনকারী জোট জানিয়েছে, এবার তাদের অভিযানে অংশ নেবে প্রায় ১০০টি জাহাজ। এই বিশাল উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা।

বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন ফ্লোটিলার ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের কথায়, আগামী মার্চ মাসে ইতালি, স্পেন ও তিউনিসিয়া থেকে জাহাজগুলো গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

গত বছর অক্টোবরে একই ধরনের একটি ফ্লোটিলা ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটকে দেয়। সেই ঘটনার পরও কর্মীরা থেমে থাকেননি। বরং আরও বড় পরিসরে নতুন করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজামুখী একটি ফ্লোটিলা ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করে। সেই বহরে ছিল ৪০টির বেশি জাহাজ এবং প্রায় ৪৫০ জন অধিকারকর্মী। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। পরে সবাইকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে—ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না, এবার আরও বড় শক্তি নিয়ে তারা গাজার পথে নামবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বহরে থাকবেন প্রায় ১,০০০ জন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রকৌশলী এবং তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারী’। আয়োগকদের দাবি, তারা শুধু ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাবেন না—গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজেও সরাসরি যুক্ত হবেন।

সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলপথেও একটা বড় কাফেলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তিউনিসিয়া ও মিশর হয়ে এই কাফেলা গাজা সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে বলে আশা করছেন অধিকারকর্মীরা। তবে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগের কয়েকটা উদ্যোগে কায়রোর পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার নজির আছে।

সংবাদ সম্মেলনে মান্ডলা ম্যান্ডেলা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরি করে ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করা এবং চাপে ফেলে “ইসরায়েলকে হাঁটু গেড়ে বসাতে বাধ্য করা” এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, যেভাবে বৈশ্বিক চাপের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের পতন হয়েছিল, একইভাবে বিশ্বজনমত গড়ে তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কার্যকর চাপ তৈরি করা সম্ভব।

 

news