চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে এবার এক নতুন ধরনের ড্রোন কৌশলে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র। 'কন্টেইনারাইজড ড্রোন সোয়ার্ম' বা কন্টেইনারে ভর্তি ড্রোনের ঝাঁক মোতায়েনের পরিকল্পনাকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। গ্যাব্রিয়েল হনরাডারের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য। তবে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন – এই নতুন পদ্ধতি কি সত্যিই যুদ্ধক্ষেত্রে আমূল বদল আনবে, নাকি এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব দুর্বলতা লুকানোর একটা সাময়িক ফন্দি মাত্র?
এ মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ভাবনী শাখা 'ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট' (ডিআইইউ) বিভিন্ন অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন একটি ব্যবস্থার পরিকল্পনা চেয়েছে, যা স্থল ও সমুদ্র – উভয় স্থান থেকে প্রচুর সংখ্যক ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়িয়ে দেওয়া এবং আবার ফিরিয়ে আনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে 'কন্টেইনারাইজড অটোনোমাস ড্রোন ডেলিভারি সিস্টেম' বা সংক্ষেপে 'ক্যাডস'।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কম সৈন্য ব্যবহার করেও যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রভাব ফেলা। প্রচলিত পদ্ধতিতে ড্রোন পরিচালনায় বড় একটি দল লাগে, কিন্তু এই নতুন সিস্টেমে মাত্র দুজন ক্রু দিয়েই একসাথে অনেকগুলো ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সাধারণ পণ্য পরিবহনের ট্রাক বা জাহাজ দিয়েই এই বিশেষ কন্টেইনারগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়া যাবে। ফলে এগুলো সহজেই আড়ালে রাখা সম্ভব, যা শত্রুপক্ষের জন্য সেগুলো শনাক্ত করা খুবই কঠিন করে তুলবে।
এই প্রযুক্তি যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতের যুদ্ধে আমেরিকা চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। তবে, এটা এখনও পরিষ্কার নয় যে এই ড্রোন ঝাঁক কতটা কার্যকর হবে বা এই প্রযুক্তি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা টিকে থাকবে।
