মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আভাস! কাতারের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার বসাল আমেরিকা, পেন্টাগনের বার্তা কি স্পষ্ট?

ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েন যেন দিন দিন চরমে উঠছে। ঠিক এমন সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের বুকে নতুন করে শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় দেশ কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। রয়টার্সের খবর, এই মোতায়েনের মাধ্যমে জরুরি মুহূর্তে তাৎক্ষণিক হামলার সক্ষমতা বাড়াল আমেরিকা।

সাধারণ সেমি-স্ট্যাটিক লাঞ্চারের চেয়ে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার অনেক দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সুযোগ দেয়। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে এই মোবাইল লাঞ্চার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দূরপাল্লার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের অন্যতম সেরা প্রতিরক্ষা অস্ত্র হিসেবে ধরা হয়। এবার সেটিই কাতারের মাটিতে প্রস্তুত রাখা হলো।

মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি রয়েছে—ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্ক। তবে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘাতের সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবার সেই আল-উদেইদ ঘাঁটিতেই মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা চলে আসছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সেই চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রও। এরপর যুদ্ধবিরতি চললেও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে সেটিকে ঘিরেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। সমালোচকদের মতে, এমন অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেও কাজে লাগিয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ওয়াশিংটন। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিচ্ছে।

অন্যদিকে একই সময়ে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওমানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, আলোচনার টেবিলে কথাবার্তা চলার মধ্যেই ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে এবং পরে তাতে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। এবারও কি সেই পথেই হাঁটবে পেন্টাগন? নাকি কাতারের ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার বসানো নিছকই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা? সময় যত গড়াচ্ছে, উত্তেজনা তত বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে।

 

news