গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে সামনে এসেছে এক ভয়াবহ দাবি। আল জাজিরার এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ২,৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এমনভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের কোনো দেহাবশেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কারণে অনেকের দেহ সম্পূর্ণভাবে বাষ্পীভূত হয়ে থাকতে পারে।

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত আল জাজিরার অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরি’-তে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজার সিভিল ডিফেন্স দলের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২,৮৪২ জনের সংখ্যা অনুমানভিত্তিক নয়। বরং ঘটনাস্থলভিত্তিক তথ্য, উদ্ধার তৎপরতার নথি এবং প্রত্যক্ষ তথ্যের ওপর নির্ভর করেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

কীভাবে তৈরি হলো এই হিসাব?

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল জাজিরাকে বলেন, কোনো ভবনে হামলার পর সেখানে কতজন মানুষ অবস্থান করছিলেন—সে তথ্য উদ্ধারকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়। যদি সংখ্যায় বড় অমিল থাকে এবং নিখোঁজদের কোনো দেহাবশেষ না পাওয়া যায়, তখন তাদের আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই দাবির সত্যতা ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—যুদ্ধের বাস্তবতা আরও নির্মম হয়ে উঠছে।

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এই অনুসন্ধান নতুন করে মানবিক সংকটের দিকটি সামনে এনে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং ভবিষ্যতে তদন্তের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।

 

news