মিয়ানমারের বন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুকির জন্য কি তবে সুখবর আসছে? দেশটির প্রেসিডেন্ট (সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা) মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তাঁর সরকার সুকির জন্য ‘ভালো কিছু’ বিবেচনা করছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

গত বুধবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকে নেপিডোতে বৈঠকে ডেকেছিলেন মিন অং হ্লাইং। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডই প্রথম, যার কোনো জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সরাসরি মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

বৈঠক শেষে থাইল্যান্ডে ফেরার আগে এক ভিডিও বার্তায় সিহাসাক জানান, তিনি অং সান সুকির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। আর উত্তরে মিন অং হ্লাইং বলেন, তাঁকে ‘ভালোভাবে দেখাশোনা করা হচ্ছে’ এবং তাঁর সরকার সুকির জন্য ‘ভালো কিছু বিবেচনা করছে।’

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক আসিয়ান দেশ অং সান সুকি ও তাঁর সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর তিনি (মিন অং হ্লাইং) বলেছেন, তারা ভালো কিছু ভাবছেন। এটা একটি ভালো লক্ষণ হতে পারে।’ যদিও কী সেই ‘ভালো কিছু’, তা বিস্তারিত কিছু জানাননি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনগুলো বৈঠকের খবর দিলেও সুকির প্রসঙ্গ তারা এড়িয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অনলাইনে ‘প্রুফ অব লাইফ’ নামে একটি প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সমর্থকরা দাবি করছেন, সুকি জীবিত ও সুস্থ আছেন—এমন প্রমাণ দেখানোর পাশাপাশি তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হোক।

এখন পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২৭ বছরের সাজা হয়েছে ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীর। তবে গত সপ্তাহে এক সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাঁর সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়। সেই সময় হাজারো বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিলেন সুকির ঘনিষ্ঠ সহকারী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। কিন্তু সুকির বর্তমান অবস্থান কোথায়, তা এখনো সরকার জানায়নি। তাঁর ছেলে কিম আরিস বারবার বলেছেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে বিতর্কিত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির নির্বাচনের পর সম্প্রতি মিন অং হ্লাইং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করে একটি ‘বেসামরিক’ সরকার গঠন করেছেন। মাত্র কয়েকটি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে এবং আসিয়ানে পুনরায় জায়গা করতে তিনি জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সম্মত হওয়া আসিয়ানের ‘ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস’ (সহিংসতা বন্ধসহ বেশ কয়েকটি শর্ত) বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এখনো আসিয়ান সম্মেলনে ডাকা হয় না।

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (মিয়ানমার) দেখাতে চাইছে যে তারা একটা ভালো দিকে যাচ্ছে। আমরা চাই তারা আসিয়ানে ফিরে আসুক। আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই, কিন্তু তারা যদি নিজেরাই নিজেদের সাহায্য না করতে পারে, তাহলে আমরা কিছু করতে পারব না।’

 

news