ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক মার্কিন নারী পর্যটক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। শিকার ওই নারী ছিলেন কর্ণাটকের কোডাগু জেলার কুট্টা এলাকার এক হোমস্টেতে (স্থানীয়দের বাড়িতে টাকার বিনিময়ে থাকার জায়গা)। সেখানেই তাঁর ওপর চলে এই যৌন নির্যাতন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত জানা গেছে।
ঘটনাটি গত সপ্তাহের। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ‘ঘটনার পরপরই ওই নারী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দূতাবাস আমাদের জানানোর পর আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করি।’ ওই নারী তিন দিনের জন্য ওই হোমস্টেতে ছিলেন।
কোডাগুর পুলিশ সুপার আর এন বিন্দু মণি জানান, এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কুট্টা থানায় এক বিদেশি নাগরিকের ওপর যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি, আদালত তাদের বিচারিক হেফাজত দিয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে।’
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মার্কিন নারী বর্তমানে মাইসুরু শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কর্ণাটকের এমএলসি সিটি রবি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, এটি ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ এবং ভারতের ‘অতিথি দেবো ভব’ (অতিথিই ভগবান) নীতির বিরুদ্ধে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, এটা আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ও মূল্যবোধের উপরে কলঙ্ক।’ তিনি রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার কাছে পূর্ণ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানিয়েছেন, ‘এসওপি (নির্দিষ্ট নিয়মকানুন) জারি করা হচ্ছে। হোমস্টে যারা চালান, তাদের অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং লাইসেন্স থাকতে হবে।’
প্রসঙ্গত, এর আগেও ভারতে বিদেশি নারী পর্যটকদের ওপর যৌন নির্যাতনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির পর্যটন খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
