বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহাসিক ভেন্যু সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এসসিজি)। নারী এশিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কাভার করতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করা ঢাকা পোস্টের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার আরাফাত জোবায়ের ঘুরে দেখেছেন এই কিংবদন্তি স্টেডিয়াম।
এসসিজি ১৮৪৮ সালে গড়াপত্তন করে। সেই সময় এটিকে গ্যারিসন গ্রাউন্ড নামেও ডাকা হতো। ১৮৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিডনিতে টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরুর চার বছর পর ড্রেসিংরুমে একটি বেঞ্চ প্রবেশ করে। ১৪০ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে সেই বেঞ্চের স্থান অটুট।
ড্রেসিংরুমের নাম ব্র্যাডম্যান, যেখানে ১৪০ বছর বয়সী সেই বেঞ্চ সবুজ রংয়ে আজও চিরসবুজের মতো জাগ্রত। এসসিজির কমিউনিকেশন হেড ফিল হেড বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে এটি ঐতিহ্যের প্রতীক। আমরা বিশেষভাবে যত্ন নিয়ে রাখি।”
স্টেডিয়াম আধুনিক হলেও ড্রেসিংরুমে পুরনো আবহ অটুট। অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে টেস্ট-ওয়ানডে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট পাওয়া ক্রিকেটারদের নামের বোর্ড রয়েছে। সফরকারী দলের জন্যও আলাদা বোর্ড আছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হলেও তাতে কোনো বোর্ড নেই। বাংলাদেশ সিডনিতে টেস্ট খেলেনি, ওয়ানডেতে কোনো ক্রিকেটার সেঞ্চুরি বা পাঁচ উইকেট না পাওয়ায় বোর্ডে নাম নেই।
ড্রেসিংরুমের নিচ তলায় রয়েছে গ্রাউন্ড সরঞ্জাম, যেখানে শতবর্ষ ধরে ব্যবহার করা রোলার মেশিন রয়েছে। রোলার মেশিনের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ নয়, তবুও এটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে ঐতিহ্য টিকে রাখে।
ক্রিকেটে রান ও উইকেট অনেকাংশে নির্ভর করে পিচের উপর, তাই পিচের দায়িত্বে থাকা কিউরেটরদেরও বোর্ড রয়েছে। ১৮৮২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সিডনিতে মাত্র ৯ জন কিউরেটর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের হোম অফ ক্রিকেটে লঙ্কান কিউরেটর গামিনী সিলভা প্রায় এক দশক দায়িত্বে ছিলেন।
কিউরেটরের পাশের বোর্ডে রয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নাম, যা ১৫০ বছরের ভেন্যু হলেও সংক্ষিপ্ত—মাত্র দশজন।
টেলিভিশনে দেখা যায়, ড্রেসিংরুম থেকে ক্রিকেটাররা মাঠে যাওয়া বা ফিরে আসা দর্শকদের পাশ দিয়ে। দর্শক ধারণক্ষমতা ৪০ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ১০ হাজার আসন এসসিজি মেম্বারদের জন্য সংরক্ষিত। আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাধারণ ও ভিআইপি টিকিট বিক্রি করা হয়।
এসসিজি মেম্বার হতে পারা যায় বিশেষ অবদান বা অনুদানের মাধ্যমে। গ্লেন ম্যাকগ্রা, স্টিভ ওয়াহসহ আরও কয়েকজন প্রসিদ্ধ ক্রিকেটার এসসিজি মেম্বার। ফুটবল, রাগবি ও অন্যান্য ক্রীড়াঙ্গনের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ও এসসিজি মেম্বার হতে পারেন। ড্রেসিংরুমের মাঝে থাকা এসসিজি মেম্বার লাউঞ্জে বিরতির সময় মধ্যাহ্নভোজ ও পানীয় পান করার সুযোগ থাকলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য এই সুযোগ নেই।
