অধিনায়ক হিসেবে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েও এখনও নিরাপদ নন সূর্যকুমার যাদব। শিরোপা এনে দেওয়ার পরও তার নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।

সূর্যকুমারের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কয়েকটি ম্যাচ ছাড়া বড় রান করতে পারেননি তিনি। আইপিএলেও মাত্র একটি অর্ধশতরান এসেছে তার ব্যাট থেকে, বাকি তিন ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ।

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। সেই সফরেও যদি সূর্য রান না পান, তাহলে তার নেতৃত্ব নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে— এমনই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপ জয়ের পর সূর্যকুমার বলেছিলেন, তার পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ভারতকে সাফল্য এনে দেওয়া। একই বছর রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। তবে প্রশ্ন উঠছে, ততদিন কি তিনি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থাকতে পারবেন?

ফর্ম ধরে রাখতে না পারলে শুধু অধিনায়কত্ব নয়, জাতীয় দলে তার জায়গাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এখনও সূর্যকুমারের ওপর আস্থা রাখছেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত গম্ভীরের চুক্তিও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ২০২৮ সালে সূর্যকুমারের বয়স হবে ৩৮ বছর।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক সূত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, “সূর্য এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু ব্যাটার হিসেবেও তাকে রান করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে রান না করলে সমালোচনা হবেই। তার পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না।”

২০২৫ সাল ছিল সূর্যকুমারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বছরগুলোর একটি। পুরো বছরে একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি তিনি। তবুও বিশ্বকাপে তার ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট, আর তিনি সেই আস্থার মূল্য দিয়েছেন শিরোপা জিতে।

তবে শুধুমাত্র অধিনায়কত্বের সাফল্যের ওপর ভর করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কোন পথে যায়।

 

news