সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কি পিছু হটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ইরানের রাজপথে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন দেশটির বিক্ষোভকারীরা। ক্ষোভ আর হতাশায় ফুটছে সাধারণ মানুষ।
“সে আমাদের কোনো তোয়াক্কা করে না”—ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমনই তীব্র অভিযোগ তুলেছেন ইরানের আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া এক ইরানি নাগরিক বলেন, “যখন ট্রাম্প জানালেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছে যে আর কোনো হত্যা বা ফাঁসি হবে না—তখন সবাই একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।”
তার ভাষায়, “এরপরই মানুষ ভয়ংকরভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সবাই শুধু বলছিল, এই হারামজাদা আমাদের কামানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে খেলেছে, আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।”
ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন যে ইরানে আর হত্যাকাণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না, তখন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভেবেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের চাপেই সরকার পিছু হটছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তারা নিজেদের আন্দোলনের পিঠে ছুরি মারা বলেই দেখছেন।
তেহরানের এক ৪০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জানান, ট্রাম্পের “সহায়তা আসছে” পোস্ট দেখেই তিনি বন্ধু ও আত্মীয়দের ফোন করে খুশির খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলছেন, “ট্রাম্প ওবামার চেয়েও খারাপ। সে পুরো ব্যাপারটাই গুবলেট করে দিয়েছে। আমাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে দিয়েছে।”
এই সাক্ষাৎকারগুলো নেওয়া হয় এমন এক সময়ে, যখন চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে দেওয়া সামরিক হুমকি থেকে সরে আসছেন বলে মনে হচ্ছিল। তবে শনিবার আবার নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেন তিনি, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চেয়ে মন্তব্য করেন।
এখন বড় প্রশ্ন—ট্রাম্পের এই বক্তব্য কি বিক্ষোভকারীদের আবার নতুন করে রাস্তায় নামাতে পারবে? বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে। গত জুনে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে হামলার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানের মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা, যা ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
