ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক হস্তক্ষেপের অংশ বলে মন্তব্য করেন।
বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালির পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেন মেলোনি। এমন এক সময় তিনি এই মন্তব্য করেন, যখন দেশটির বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে—মেলোনির ডানপন্থী সরকার মিত্রদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ করছে।
স্পেন ছাড়া ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলে এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। তবে এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মেলোনি সরাসরি এই দুই দেশের সমালোচনা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মেলোনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। তার মতে, যদি তা ঘটে, তাহলে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে এবং এতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি ইতালি ও ইউরোপ তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ১২তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংসদে এই সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মেলোনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে রাশিয়ার ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের তুলনাও টানেন। তার মতে, এসব ঘটনার ফলে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ছে।
দেশটির সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই কাঠামোগত সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরায়েলি হস্তক্ষেপকে মূল্যায়ন করা দরকার। তার মতে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় হুমকিগুলো ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে একতরফা হস্তক্ষেপও বাড়ছে।
মেলোনি আরও জানান, তেহরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা করছে রোম। তার ভাষায়, এটি শুধু মিত্রতা বা কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণেই নয়। ওই অঞ্চলে হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক অবস্থান করছেন, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ইতালির দায়িত্ব। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির প্রায় ২ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
