ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি দেশটিতে বিক্ষোভে নিহতদের মৃত্যুর জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে তিনি এক কথায় ‘অপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে সামরিক উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিলেও সেই হুমকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে তেহরান থেকে কড়া ভাষা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইরানে গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহত লোকদের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তিনি ট্রাম্পকে 'অপরাধী' হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন, আমেরিকা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তবে এখনই সরাসরি সামরিক জবাব দেওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন খামেনি।

ইরানি সরকার গর্ব করে দাবি করছে যে তারা চলমান অস্থিরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। সরকারি বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভকারীরা এখন কার্যত দমে গেছে বলে তারা জানাচ্ছে। বিভিন্ন স্বাধীন সূত্রের দাবি, এই দমন অভিযানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
সরকারের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত হলো, দীর্ঘ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সার্ভিস ধীরে ধীরে চালু করা হচ্ছে। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারনেট ফিরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সরকারের আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ। এর মাধ্যমে ইরানি নেতৃত্ব দেখাতে চাইছে যে রাজপথের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে, তাই ইন্টারনেট চালু করায় আর কোনো ঝুঁকি নেই।

খামেনি যদিও সামরিক পদক্ষেপ এখনই নেওয়া থেকে সরে আসার কথা বলেছেন, তবে পাশাপাশি সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, শুধু সাময়িকভাবে পেছনে রাখা হয়েছে।

 

news