যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা এবং ইরানের দিকে বড় আকারের নৌবহর পাঠানোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের শঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে। সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী।
বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানকে কড়া নজরদারিতে রেখেছি। আমাদের অনেক জাহাজ ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য। আমরা একটি বড় বহর পাঠাচ্ছি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে।”
তিনি আরও জানান, ইরান যেন পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি চালু না করে—এই বার্তা তিনি আগেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দিকে মার্কিন বহর পাঠানো এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আরও চড়তে পারে। বিশেষ করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত হলে মূল্য বাড়ার আশঙ্কা বেশি।
অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিকে সতর্ক করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দিলে তেলের বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহে দেরি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা—সবই বাড়বে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার শঙ্কাও তৈরি করেছে। ইরান আগেই জানিয়েছে, যে কোনো আগ্রাসনের জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের দিকে মার্কিন যুদ্ধবহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব এখনই বিশ্ব তেল বাজারে পড়তে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
