তেহরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক বসছে। সংস্থার মানবাধিকার কাউন্সিলের এই বিশেষ অধিবেশন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শুরু হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই বৈঠকে ইরানে চলমান সহিংসতা এবং দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল গঠনের আহ্বান জানানো হবে।

আইসল্যান্ড খসড়া করা একটি চিঠির তথ্য বলছে, ইরানে বিক্ষোভ দমন, ব্যাপক নিপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টের ভিত্তিতে অন্তত ৫০টি দেশ এই জরুরি অধিবেশন ডাকার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রস্তাবে ২০২২ সালের বিক্ষোভের পর গঠিত জাতিসংঘের তদন্তের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোরও আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে তেহরান ও অন্যান্য শহরে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোরও জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানানো হবে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, তেহরান এবং অন্যান্য শহরে চলমান সহিংস বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন ইরানি-কানাডীয় নাগরিকত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘের সাবেক প্রসিকিউটর পায়াম আখভান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানে সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতার মাত্রা নিয়েই তিনি সেখানে কথা বলবেন।

অন্যদিকে, তেহরান সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি উঠেছে। তাদের বক্তব্য, দেশের এই অস্থিরতা এবং সহিংসতার পেছনে সরাসরি আমেরিকা ও ইসরায়েল সমর্থিত 'সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের' হাত রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সংহতি রক্ষার জন্য তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করছে, কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়।

 

news