কথায় আছে, 'বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো'—কিন্তু ইরান এবার মাটির নিচে এমন এক বজ্র আঁটুনি তৈরি করেছে যা ফসকানোর ক্ষমতা সম্ভবত এই পৃথিবীর কারোরই নেই। কল্পনা করুন মাটির ১৩০ ফুট গভীরে এমন এক দুর্গ, যেখানে তৈরি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র। আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমাও যেখানে গিয়ে হার মেনে যায়। ইরান কি তবে সত্যি সত্যি অপরাজেয় হয়ে উঠছে? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করবো ইরানের সেই গোপন সুড়ঙ্গের রহস্য।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরান সবসময়ই এক রহস্যময় নাম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন এক খবর চাউর হয়েছে যা পশ্চিমা বিশ্বের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এমন এক স্তরে নিয়ে গেছে যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। তারা মাটির প্রায় ৪০ মিটার গভীরে নির্মাণ করছে তাদের নতুন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র যা আধুনিক প্রযুক্তির সবোর্চ্চ সুরক্ষা বলয়ে ঢাকা।

সাধারণত যেকোনো সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে হলেও তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। কিন্তু ইরান এবার মাটির ১৩০ ফুট বা ৪০ মিটার নিচে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত গভীরে যাওয়ার মূল কারণ হলো আমেরিকার জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার বোমা থেকে রক্ষা পাওয়া। এই গভীরতা ভেদ করে কোনো প্রথাগত বোমা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

পেন্টাগনের সামরিক বিশ্লেষকরা স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নন-নিউক্লিয়ার বোমাও এই স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে না। এটি কেবল একটি ল্যাবরেটরি নয়, বরং এটি একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ। আমেরিকা এবং ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে আসলেও, এই নতুন স্থাপনা তাদের সমস্ত পরিকল্পনাকে এখন কার্যত অকেজো বা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের জগ্রোস পর্বতমালার গভীরে বিশাল খনন কাজ চলছে। সেখানে পাহাড় খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্রবেশপথ এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। এই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিশাল সেটআপ বসিয়েছে। যা তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির স্বপ্নকে এখন অনেক বেশি বাস্তব করে তুলছে।

ইরানের এই পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে ইসরায়েলকে। তারা বারবার দাবি করে আসছে যে ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু মাটির এত গভীরে কার্যক্রম চলায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়ে কোনো সুফল পাবে বলে মনে হয় না। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং ইরানকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত করতে পারে।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ (IAEA) এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের কাছে স্বচ্ছতা দাবি করলেও তেহরান তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তারা বলছে এটি কেবল শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য, কিন্তু স্থাপনার গভীরতা এবং গোপনীয়তা অন্য কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে যে তারা এই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।

ইরানের এই মাটির নিচের শহর কি তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করছে? নাকি এটি কেবল আত্মরক্ষার এক ঢাল? আধুনিক যুদ্ধবিদ্যায় মাটির নিচের এই লড়াই ইরানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে তা সময় বলে দেবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ইরান এখন আর আগের মতো দমে যাওয়ার পাত্র নয়।

আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগলো এবং ইরানের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তারা কি সত্যিই পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে নাকি এটি কেবল পশ্চিমা বিশ্বকে চাপের মুখে রাখার কৌশল? আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। 

news