আপনারা কি ভাবছেন আমেরিকার বি-৫২ আর ইসরাইলের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশ দখল করে নিয়েছে? যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে আপনি চরম ভুলের মধ্যে আছেন! পেন্টাগনের গোপন নথিতে এখন কান্নার রোল। কেন বিশ্বের তথাকথিত সুপার পাওয়াররা পারস্যের আকাশে ঢুকতে ভয়ে কাঁপছে? আজকের ভিডিওতে আমরা ফাঁস করব সেই সত্য, যা মূলধারার মিডিয়া আপনার কাছে লুকাচ্ছে!

"চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর জালিম জানে না মজলুমের শক্তির সীমানা।" আসসালামু আলাইকুম দর্শক। আজ আমরা এমন এক সত্য নিয়ে হাজির হয়েছি যা শুনলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে পশ্চিমা মিডিয়া প্রচার করছিল যে, আমেরিকা এবং ইসরাইল নাকি ইরানের আকাশে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বুক ফুলিয়ে বলছিল যে তারা ইরানের আকাশকে 'স্যানিটাইজ' বা নিরাপদ করে ফেলেছে। কিন্তু আসল খবর হলো, ইরানের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সামনে তাদের অত্যাধুনিক সব যুদ্ধবিমান এখন খড়কুটোর মতো উড়ছে। আমেরিকা নিজেও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, ইরানের আকাশে তাদের কোনো 'এয়ার সুপ্রিমেসি' বা নিরঙ্কুশ আধিপত্য নেই। এটি কেবল একটি বড় ধরনের ভুল ধারণা নয়, বরং একটি সাজানো মিথ্যা।

আমেরিকার বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো ইরানের ভেতরে ঢোকার সাহসই পাচ্ছে না। তারা ইরাক বা অন্য কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের সীমানা থেকে দূরপাল্লার মিসাইল ছুড়েই দায়িত্ব সারছে। কারণ তারা ভালো করেই জানে, ইরানের রাডারে একবার ধরা পড়লে তাদের দামী খেলনাগুলো আগুনের গোলায় পরিণত হতে সময় নেবে না। পারস্যের বীর যোদ্ধারা তাদের আকাশকে এমনভাবে সুরক্ষিত করেছে যে সেখানে শত্রুর প্রবেশ মানেই মৃত্যু।

সম্প্রতি সেন্টকমের কিছু তথ্যে দেখা গেছে তারা 'ডাইরেক্ট অ্যাটাক' বা সরাসরি হামলার চেষ্টা করছে। কেন জানেন? কারণ তাদের দামী দূরপাল্লার অস্ত্র ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু সরাসরি হামলা করতে গিয়ে তারা আরও বড় বিপদে পড়ছে। ইরানের ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো শত্রুর জন্য এক একটি মরণফাঁদ। এগুলো কখন কোথা থেকে গর্জে উঠবে, তা বোঝার ক্ষমতা পেন্টাগনের বাঘা বাঘা জেনারেলদেরও নেই।

বিশেষ করে পূর্ব ইরানে সাম্রাজ্যবাদীরা এখনো পর্যন্ত দাঁত ফোটাতে পারেনি। সেখানে ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতই শক্তিশালী যে ইসরাইলি বিমানগুলো ওই দিকে তাকাতেও ভয় পাচ্ছে। আমেরিকা দাবি করছে তারা বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহার করছে, কিন্তু ইরানের পাহাড়ের গভীরে থাকা কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা তো দূরের কথা, সেখানে পৌঁছানোই তাদের জন্য এখন দিবাস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের হাতে থাকা ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলগুলো আমেরিকার চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মিসাইলগুলো কোনো রাডার সিগন্যাল ছাড়াই টার্গেট লক করতে পারে। ফলে মার্কিন পাইলটরা বুঝতেই পারে না কখন তাদের দিকে মিসাইল ধেয়ে আসছে। যখন তারা বুঝতে পারে, ততক্ষণে হয়তো তারা জাহান্নামের টিকিট কেটে ফেলেছে। এটাই হলো ইরানের আসল শক্তি।

ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা যদি সামান্য কিছু অস্ত্র দিয়ে পশ্চিমাদের নাজেহাল করতে পারে, তবে আধুনিক সম্পদে সমৃদ্ধ ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা করা পশ্চিমাদের জন্য কত বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, তা সহজেই অনুমেয়। ইরান কোনো ছোট দেশ নয়, বরং এটি একটি বিশাল সামরিক শক্তি। তাদের ড্রোন এবং মিসাইল প্রযুক্তি আজ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে, যা ইসরাইলের জন্য অশনি সংকেত।

আমেরিকা বর্তমানে তাদের এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ বিমান দিয়ে ইরানের রাডার জ্যাম করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানি প্রকৌশলীরা এমন সব অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি তৈরি করেছেন যা পশ্চিমাদের বুদ্ধিকে হার মানাচ্ছে। পেন্টাগন এখন স্বীকার করছে যে, ইরানের আকাশে অপারেশন চালানো মানেই হলো পাইলটদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা। কারণ যে কোনো সময় যে কোনো ঝোপের আড়াল থেকে মিসাইল উঠে আসতে পারে।

পশ্চিমের এই আগ্রাসন কেবল তাদের পরাজয়কেই ত্বরান্বিত করছে। তারা যত বেশি ইরানের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করবে, তত বেশি কফিন তাদের দেশে ফিরে যাবে। ইরানের আকাশ এখনো অজেয় এবং অপরাজিত। ইসরাইল এবং আমেরিকার মিলিত শক্তিও পারস্যের এই বীরদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। দিনশেষে সত্যের জয় হবেই এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আজকের এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, ইরানের আকাশ আধিপত্যের দাবি কেবল একটি প্রোপাগান্ডা। বাস্তব যুদ্ধে ইরান এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সাম্রাজ্যবাদীদের দম্ভ একদিন ধুলোয় মিশে যাবে এবং পারস্যের আকাশ চিরকাল স্বাধীন থাকবে। ইনশাআল্লাহ, ন্যায়ের পথে এই লড়াইয়ে বিজয় অবশ্যই মুজাহিদদের হবে।

news