লাল বলের ক্রিকেটে বছরের প্রথম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, প্রতিদিন ভালো ক্রিকেট খেলার কথায় বিশ্বাসী তিনি। অতীতের সিরিজের সাফল্যও আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করিয়ে দিলেন এই টাইগার অধিনায়ক।
শান্ত বললেন, ‘গত সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা এখন অতীত। তবে সেই সিরিজ আমাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেবে। এই সিরিজেও ভালো খেলতে হবে। প্রতিদিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, তাহলে ফলাফল নিজে থেকেই চলে আসবে। রেকর্ড নিয়ে মাথা ঘামাই না। বরং প্রতিদিন ভালো খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মিরপুরে খেলার কারণে ব্যাটিং গড় কম– এমন প্রশ্নে শান্তর সুরে ছিল আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘মন খারাপের কিছু নেই। মিরপুরে সব সময় চ্যালেঞ্জ ছিল। এখানে ব্যাট করা সব সময় কঠিন। ভালো উইকেটে খেলতে পারলে বা আগে যারা খেলেছে তারা ভালো উইকেট পেলে তাদের গড় বা স্ট্রাইক রেট আরও ভালো হতো। কিন্তু এটা তো খেলোয়াড়দের হাতে নেই। যেমন কন্ডিশনই থাকুক, সেটা অনুযায়ী কতটা ভালো ব্যাটিং করা যায়, সেটাই আসল। সম্প্রতি মিরপুরের উইকেট ভালো হয়েছে, বিশেষ করে সাদা বলের সিরিজে। আশা করি, ধীরে ধীরে ব্যাটাররা আরও ভালো করবে। সময়ের সঙ্গে গড়ও বদলাবে।’
তাসকিন আহমেদকে দলে ফেরা প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তাসকিন সব সময় টেস্ট খেলতে চায়। দুর্ভাগ্যবশত ফিটনেস, ইনজুরি বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে আমরা সব সময় ওকে রাখতে পারি না। কিন্তু সে খেলতে চায়। এই টেস্টের আগে ট্রেনার ও ফিজিওদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সে ফিট, তাই দলে নেওয়া হয়েছে। গত সিরিজে দারুণ করেছিল। তাসকিন দলে থাকলে ক্যাপ্টেনের কাজ অনেক সহজ হয়। দলে তার বাড়তি এফোর্টটা আমরা পাই। সেই আশা নিয়েই এসেছে। আশা করি এই সিরিজেও ভালো করবে। বাকি পেসারদেরও নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা আছে।’
উইকেট নিয়ে শান্ত জানান, ‘ভালো উইকেট হবে আশা করছি। আমাদের বোলিং আক্রমণ অভিজ্ঞ। ব্যাটাররা অনেক দিন ধরে এই ফরম্যাট খেলছে। টেস্টে আমরা একসঙ্গে বেশ কয়েক সিরিজ খেলছি। অভিজ্ঞতায় দল ভালো। উইকেট যেমনই থাকুক, আমাদের ভালো পেসার ও স্পিনার আছে। তাই স্পোর্টিং উইকেট হলেই ভালো। তবে আবহাওয়ার ওপরও উইকেট নির্ভর করে। মানিয়ে নিতে হবে। বোলার-ব্যাটাররা সব পরিস্থিতি সামলানোর সামর্থ্য রাখে।’
এত দিন পর টেস্ট খেলা কতটা কঠিন? শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই কঠিন। তবে একটা চারদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি, এটা খুব ভালো। মুমিনুল ভাই, তাইজুল ভাই, নাঈম– সবার জন্যই এটা কঠিন। মুশফিক ভাই তো শুধু এই ফরম্যাটই খেলেন। তারা পেশাদারিত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেন, নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলেন। দলকে সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি খুব খুশি যে সবাই মন থেকে পারফর্ম করতে চায়। সব কিছু চাইলেও পরিস্থিতির কারণে ভালো করা সম্ভব হয় না। তবে আমরা ভালো চিন্তা করতে পারি, ভালো প্র্যাকটিস করতে পারি। তারা সব সময় সেটাই করেন।’
