ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানীজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। ফলে শহরের রাস্তা যেন “আগুনের নদী”-তে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পাশের ড্রেনগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে।
ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরান’ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে এবং লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় তেলের ডিপোতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় এই হামলা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। তিনি জানান, আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।
ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, “ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।”
যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা জানি যে লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে কত সময় প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি উন্নয়ন ঘটছে এবং আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যেখানে এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন ধাপে যেতে হবে।”
উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের হাসপাতালে প্রায় ২ হাজার মানুষ ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন।
হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি এবং ৭০ জন সামান্য আহত। বেশিরভাগ আহতই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন।
