যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানে টানা ৯ম দিনের মতো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। এই হামলার প্রতিশোধে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
হামলার আগে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানবিরোধী ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছিল। সেই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উসকানি দেওয়া হয়েছিল। যদিও ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সেই আন্দোলন দমন করে।
পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আকস্মিকভাবে হামলা শুরু করে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ‘ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা’ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এক বক্তৃতায় যুদ্ধ শেষে ইরানের মানচিত্র আগের মতো থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অধ্যাপক ইজাদি বলেন, “এতে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত বা ‘বলকানাইজ’ করার পরিকল্পনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরের উত্তর দিকে অবস্থিত তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে। ট্রাম্প সম্ভবত এই তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে নিজের পছন্দের কাউকে বসাতে চাইবেন, এবং দেশের বাকি অংশের প্রতি তার তেমন আগ্রহ থাকবে না।
অধ্যাপক ইজাদি বলেন, “ইরানের অন্যান্য অংশ হয়তো প্রতিবেশী দেশগুলোর দখলে চলে যাবে অথবা তেল না থাকলে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকবে। ট্রাম্প তেল পছন্দ করেন—ভেনেজুয়েলার তেলের মতোই ইরানের তেলও তার লক্ষ্য। এ কারণে তিনি এমন এক সরকার চায় যা অকার্যকর এবং নেতৃত্বহীন। সম্ভবত তারা ইরানের প্রেসিডেন্টকেও হত্যার চেষ্টা করবে, ফলে সরকারের পতন ঘটবে এবং দেশের মানচিত্র বদলে যাবে।”
আয়তন এবং ভৌগোলিক তথ্য:
ইরান আয়তনে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম দেশ, যার আয়তন প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার (৬ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইল)।
ইরান পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত এবং সাতটি দেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত শেয়ার করে: ইরাক, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং আর্মেনিয়া। সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত ইরাকের সঙ্গে।
